April 16, 2021

নারীদিবসে অসামান্য নারীর গল্প

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস বা বলা ভালো নারী-The Boss।

নারীদের মধ্যে রয়েছে এক অসামান্য শক্তি, যা আমরা পৌরাণিক কাহিনী থেকেই শুনে আসছি।

অনেকেই বলে বাংলার এক প্রবাদ ” হাল ছাড়ো না বন্ধু”।

এই হাল না ছেড়েই এগিয়ে গিয়েছে আমাদের বিশ্বের অনেক নারী।

আজ এই নারী দিবসে এক নারীর অক্লান্ত পরিশ্রমের গল্প বলা যাক। যার গল্প আমাদের অনুপ্রাণিত করে।

ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ২০২০ য়ের রানার-আপ মান্য সিং প্রমাণ করে দিয়েছে এক নারীর কঠোর পরিশ্রম তাকে তার লক্ষ্যে ঠিক পৌঁছে দেয়।

সম্প্রতি, বিউটি প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগী মান্য সিং মিস ইন্ডিয়া রানার-আপ মুকুট জিতেছিলেন।

এই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমরা মান্য সিংহের চেতনা এবং কঠোর পরিশ্রম উদযাপন করি যিনি হার না মানা এবং মুকুট জয়ের স্বপ্ন অর্জন করেছিলেন।

উত্তর প্রদেশের একটি ছোট্ট শহরে মান্য সিংয়ের বাড়ি।

তিনি সেই শহর থেকে উঠে এসে মুম্বাইয়ের এক বস্তিতে বাস করতেন।

তার স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়া কিন্তু পরিবেশ তার সক্ষম ছিল না।

কিন্তু তাও আশা হারান নি তিনি।

উত্তপ্রদেশের বাসিন্দা মান্য সিং।

তার শৈশবকাল থেকেই তিনি দেখেছেন কতটা কঠোর পরিশ্রম করে তার বাবা-মা তাকে একটা ভালো জীবন এবং শিক্ষা দিয়েছেন।

১৪ বছরের কোমল বয়সে, তিনি নিজের বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তার স্বপ্ন পূরণের জন্য।

তিনি মুম্বাইয়ের ট্রেনে উঠে একাই ভ্রমন করেছিলেন।

মুম্বই পৌঁছানোর পরে, তিনি যে প্রথম স্থানটি পেয়েছিলেন তা ছিল এক পিৎজার দোকান।

তিনি সেখানে একটি পার্ট-টাইমের কাজের ব্যবস্থা করেছিলেন।

অবশ্য মুম্বই আসার দু’দিন পরে, তিনি উত্তরপ্রদেশে ফিরে তার বাবা-মার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

তার বাবা তার ডাকে ভেঙে পড়েছিলেন।

তারপরই তার বাবা-মা মুম্বাই এসেছিলেন এবং তার বাবা একটি অটোরিকশা চালকের কাজ নিয়েছিলেন।

মান্য একটি শালীন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন।

পাশাপাশি তিনি তার পার্ট-টাইম চাকরি চালিয়েছিলেন,

যেখানে তিনি প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা উপার্জন করতেন।

১৫ বছর বয়সে, তিনি প্রথম টিভিতে একটি বিউটি পেজেন্ট পর্বটি দেখেছিলেন।

সেটি দেখেই তিনি মনস্থির করেছিলেন যে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন এবং মুকুট জিতবেন।

এই ব্যাপারটি তিনি তার বাবাকে জানিয়েছিলেন।

তার বাবা বলেছিলেন, “আমরা সবসময় তোমার পাশে রয়েছি”।
তার আত্মীরা তাকে সমর্থন করেনি।

তাদের মতে পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করাটাই মেয়েদের জীবন।

কিন্তু তার বাবা তাদের কথা শোনেনি।

বরং তিনি মান্যকে উৎসাহিত করেছিলেন এবং কঠোর পরিশ্রম করতে বলেছিলেন।

তিনি যখন স্নাতকে পড়াশোনা করছিলেন,

তখনই তিনি ১০ টি আলাদা আলাদা বিউটি পেজেন্টে অডিশন দিয়েছিলেন।

কিন্তু সেখানের মানুষেরা তাকে জানায়,

তিনি সুন্দর নন এবং ইংরাজিতে কথাও বলতে পারেন না,

তাই তার জন্য এই জায়গা নয়।

এই সময়ে মান্য সিং এবং তার পরিবার খুব সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়।

তার বাবার জমানো সোনার গয়না বন্ধক দিয়ে টাকা নেন।

মান্য পিৎজার দোকানে কাজ করার সঙ্গে সেই দোকানের মেঝে পরিষ্কারের কাজও করতেন।

যাতে তিনি নতুন জামা কিনতে পারেন।

এরপরই তিনি পিজা হাটে কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আসা মানুষদেরকে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন।

কিভাবে তারা ইংরাজিতে কথা বলছে,

কিভাবে চলাফেরা করছে,

কিভাবে কথা বলছে তা লক্ষ্য করতে থাকেন তিনি।

এমনকি তার কলেজের ব্যাচম্যাটসরা কিভাবে ইংরাজিতে কথা বলে তাও দেখতে থাকেন তিনি।

এইভাবে তিনি নিজেকে গ্রুমিং করেন বিউটি পেজেন্টর জন্য।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি আবারও চেষ্টা করেন এই বিউটি পেজেন্টর জন্য।

তিনি ভিএলসিসি ফেমিনা মিস ইন্ডিয়ার জন্য অনলাইনে ইন্টারভিউ দেন।

সেখানে তিনি তার বাবার কাজ ও নিজের কাজের সম্পর্কে জানান।

তিনি সৎভাবে পুরো সত্যিটা জানান।

২ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম তাকে ২০২০ মিস ইন্ডিয়ার রানার-আপ করে দেয়।

এই খুশিতে তার বাবা তাকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং,

বলেছিলেন,

“মান্য ওমপ্রকাশ সিং করে দেখিয়েছে।”

এমনকি তিনি বিনামূল্যে যাত্রীদের অটোতে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তার বাবা বলেছিলেন,

“আমার মেয়ে বিউটি পেজেন্ট জিতেছে এবং আমাকে গর্বিত করেছে।”

এই বিউটি পেজেন্ট জেতার পরে মান্য চেয়েছিল প্রথমে একটি বাড়ি কিনতে।

তিনি জানিয়েছিলেন,

আমার বাবা মা আমার জন্য অনেক করেছে ,

এবার সময় আমার তাদের জন্য করার।

তার এই গল্প আমাদের চোখে জল এনে দেয়।

কোনও বাধাতেও হার মানেন নি তিনি।

নিজের আত্মবিশ্বাস এবং পরিশ্রম দিয়ে জয় করেছেন সব বাধা।

তার এই গল্প প্রতিটি মেয়েকে অনুপ্রাণিত করে।