Home শনিবাসর সুখসমাপ্তি

সুখসমাপ্তি

20
0
-সঙ্কর্ষণ
গোলেমালে তাল উঠেছিলো কাল,
“ধর ধর, ওরে চোর।”
কতো বয়স হবে, নেমেছে এ জবে
বারো-তেরো বড়ো জোর।
কেলে ভূষো রঙ, কাদা হাতে পায়ে
ভয়েতে পাংশু মুখ,
দেখে বোঝা যায়, নিয়মিত পায়
জীবনে যাতনা দুখ।
“মার মার শালা, পিটে মেরে ফ্যালা”
দিকে দিকে ওঠে রব,
নিরীহ বালক, কাঁপে ঠকাঠক
হারিয়ে ভরসা সব।
দিনের বাজারে বুড়ো সনাতন
ঘন ঘন যাতায়াত,
“সরো দিকি ভাই, চোর দেখে যাই
আহা গো, ভয়েই কাত।”
“কার বাছা তুমি, ঘরদোর জমি
কিছুই কী বাকি নাই?
ভরা শোরগোলে, ভীতি ভয় ভুলে
নিয়েছো কী তুমি ভাই? “
বালকের গালে, দোকানি বসালে
প্রবল চপেটাঘাত,
নিলি যা ফোকট, ফেরা চটপট
নইলে কষাবো লাথ।
“ক্ষমা করো দাদু, ও জ্যেঠু ও কাকু
নিয়েছি একটা রুটি,
দিন দুই হোলো, দেখবে গো চলো
বাবা মা খায়নি দুটি।”
বাজারের মাঝে, স্তব্ধতা এক
আসে নেমে চুপিচুপি,
বুকে, পেটে, কাঁধে, কাঁটা হয়ে বেঁধে
পাপেতে কামানো রুপি।
চটকাটা ভেঙে, সনাতন রেগে
“সাহস থাকে, তো মার।
তোমরাই বলো, কই মুখ তোলো
দোষটা আসলে কার?”
তার পরে দুটি, বড়ো পাঁউরুটি
দিয়ে বালকের হাতে,
“মাফ কর ভাই”, বলে দুটি টাকা
গুঁজে দিলো একই সাথে।
এমনি করেই কে যে কার চোখে
নায়ক হয়ে যায় ভাই,
আজব দুনিয়া আনাচে কানাচে
কাহিনীর শেষ নাই।
সন্ধ্যের মুখ, ভাঙছে বাজার
বাতাসে সুখের রেশ,
না জানি কী ভেবে, গাইছে আকাশ
আহা হা, বেশ বেশ।
Previous articleদেখার গল্প (দশম পর্ব)
Next articleপ্রথা ভেঙে এবার পুজোয় পৌরহিত্য মায়েদের