Home MIRROR EDITORIAL শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্র সংকট, পর্ব-১

শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্র সংকট, পর্ব-১

95
0
আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কলম ধরলেন জয়িতা ভট্টাচার্য আজ ১ম পর্ব
“আমি মাধ্যমিকে থার্ড হয়েছি আমার সাফল্যের পেছনে
অমুক প্রকাশনী র সহায়িকার অবদান …”
        মাত্র একটা ছোট্ট বিজ্ঞাপন দেখিয়ে দেয় আমাদের অন্তঃসারশূন্য শিক্ষা ব্যবস্থা ও
ঘূণধরা সমাজচিত্র।
শিক্ষার পরিভাষা পরিবর্তন হয়ে গেছে আজ।পরিবর্তন হয়ে গেছে শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কও।
সহায়িকা নির্ভর শিক্ষা একটি দেশের মানুষকে কতটা শিক্ষিতই বা করতে পারে কেবল
বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা ছাড়া?
শিক্ষা আর বিদ্যা এখন সমার্থক।
বুৎপত্তিগত ভাবে শিক্ষা শব্দের উৎপত্তি ‘শাস’ ধাতু থেকে অর্থাৎ  আসন করা
নিয়ন্ত্রণ করা প্রভৃতি।
বিদ্যা শব্দটি ‘বিদ’ শব্দ থেকে চয়ন করা হয়েছে যার অর্থ জ্ঞান অর্জন করা।
আজ দেখা যায়  প্রতিটি ছাত্র এমনকি তার অভিভাবকও এটাই মনে করেন যে শিক্ষা মানে
অর্থপার্জনের উপায়মাত্র।শিক্ষা মানে হয়ে দাঁড়িয়েছে যেনতেন প্রকারেণ  পরীক্ষা পাশ।
শিক্ষকদের কাছে প্রধান মাথা ব্যথা  সিলেবাস কমপ্লিট করা কিম্বা ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণ করা।
জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি একেবারেই আর বিদ্যার্জনের উদ্দেশ্য নেই।
কারন হতে পারে  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ।
মুক্ত বাণিজ্য বা বাজার অর্থনীতির প্রতি ঝোঁক  ক্রমে মানুষের
মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছে কনজিউমারিজম নামক রোগ।
জীবনের মানেই বদলে দিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির চাপ ও প্রলোভন মেটানোর শত হাতছানিতে
মূল্যবোধের অবক্ষয় ছাড়া কিছু অর্জিত হয়নি।
মানুষ আরো তলিয়ে যাচ্ছে অন্ধকার ভবিষ্যতে।
এর দায় অবশ্যই বর্তায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর।
কাকে বলব একজন শিক্ষিত মানুষ?আর কাকে অশিক্ষিত?ভাবলে কুজ্ঝটিকা। এখন
শিক্ষাধিপতি কোনো শিক্ষাবিদ নয়, নয় কোনো সুষ্ঠু পরিকাঠামো।শিক্ষাব্যবস্থাও এখন
রাজনীতির আকর।হয়ত এক’শ বছর আগেও ছিল কিন্তু  তা ছাত্রদের প্রভাবিত করত না
এমন কদর্য রূপ ধারণ করেনি।
 আমাদের দেশে লেখা হয় ভুল অসম্পূর্ণ  ইতিহাস, অপ্রয়োজনীয় জটিলতার গণিত, সাহিত্য
পাঠক্রম এমনভাবে তৈরি যাতে মাতৃভাষা সম্পর্কে কখনো ভালোবাসা না জন্মায়।
তদুপরি  আছে ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষণপদ্ধতি।
যে শিক্ষা সৃজনশীলতাকে উৎসাহ দেয় না, যার বাস্তব জীবনে কার্যকারিতা নেই বললেই চলে
তা কেবল মুখস্থ বুলি ছাড়া কিছু নয়।
তাই দেখা যায়  পরীক্ষায় প্রথম হওয়া ছাত্রটি আগের ক্লাসের কোনো বিষয়ের
সাধারন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।কেবল নম্বর পাওয়ার জন্য পড়া ।
খুব বেশিদিন আগেও নয় যখন স্কুল  থেকে বাড়ি ফিরে খেলাধুলোর একটা পরিসর ছিল।
এখন বিকেল চুরি হয়ে গেছে শৈশব থেকে টিউটর ও কোচিং।
“পাশের পড়া”,জ্ঞানার্জন  নয়।
ক্রমশঃ
Previous articleআগুন বাজার
Next articleশেষমেশ মুখ খুললেন জুকেরবার্ক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here