Home শনিবাসর তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ

তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ

4
0

আজ গুরু পূর্নিমা। গুরু কে ! তা নিয়েই এবারের কভার স্টোরি লিখলেন -অর্জুনদেব সেনশর্মা ।

 

গুভজু এবং দেভজু।দেভজু মূলত বৌদ্ধধর্মের স্মার্তধারা।বিশেষত এখন সকলেই অজ্ঞান নতুবা সংসারী সৌগতরা গৃহে লামাদের দ্বারা যেসব

বিধিসম্মত তান্ত্রিকী দেবতাদের পূজাকৃত্য করান তাঁরা মূলত দেভজু।

দেভজুরা যে গুবজু নয় তা নয়।মোটামুটি আমার অনুমান ১৬০০ শতকের আগেই,বৌদ্ধিধর্মও জন্মগত হয়ে যায়।

নতুবা তা নয়।এই সব না-বৌদ্ধ  বৌদ্ধসন্তানদের  অনেকেরই সঙ্ঘদীক্ষা হত না।এঁরা বিশেষ করে এই দেভজু।কিন্তু দীক্ষা ঠিক

পদ্ধতিতে অনুসৃত হলে এবং গুরুপূজা বর্তমান থাকলে   তাঁরা গু ও দে উভয় ভজু।

 

বিশেষ করে গুরুমুখী গুহ্য পূজাপদ্ধতিতে ও ধ্যান-যোগ-তন্ত্রে আশ্রিত ক্রিয়াকুশলগণ গুভজু।লামাগণ অধিকাংশই গুভজু।আবার ইষ্টক্ষেত্রে,তাঁরা

দেভজুও বটে।তাঁদের যৌথসাধনা ছাড়া,অন্য পুরোহিতগোত্রীয় লামার উপস্থিতির সাধারণ প্রয়োজন পড়ত না।

 

হিন্দু ব্রাহ্মণের ক্ষেত্রে সাবিত্রীদাতা গুরুই গুরু।অপিচ তান্ত্রিকী দীক্ষা হলে,অথবা বিশেষ বিশেষ কার্যে তান্ত্রিকী গুরুর প্রবেশ তাঁদের মধ্যে প্রচলিত ছিল।

বাংলাদেশে গুরুর উল্লেখ আমরা পাই বল্লালসেনের ক্ষেত্রে।অনিরুদ্ধ ভট্ট তাঁর গুরু ছিলেন।

 

বল্লাল সেন যে পুরাণগুলিকে তান্ত্রিকী পুরাণ বলেছেন,সেগুলিতে দ্বিজ,স্ত্রী,শূদ্র,দ্বিজবন্ধূদের তান্ত্রিকী দীক্ষার বিধান আছে।ফলে অন্তত বল্লালের থেকে কম

করেও, প্রক্ষেপ হলেও অন্তত ১০০ বছরই ধরে নিলাম।অর্থাৎ ৭০০-৮০০ খ্রি ধরে নিলাম।

 

আচার্য রমেশ মজুমদার জাতিতে বৈদ্য।বৈদ্য ঐতিহাসিকদের একটি বাতিকের নাম দাক্ষিণাত্য বাতিক।যদিও সেনরাজারা বক্ষ্যমান বৈদ্যদের সঙ্গে

যুক্ত তার এপিগ্রাফিকাল দিক থেকে খুব ভালো প্রমাণ নেই,তবু অভেদজাতি ভেবে এই ঐতিহাসিকেরা বাংলার সাধারণ কিছুও দক্ষিণে খুঁজে পান।

রমেশ মজুমদার সিদ্ধান্ত করলেন দাক্ষিণাত্য ব্রাহ্মণেরা এসে ১২শ-১৪শ শতক নাগাদ কুলদীক্ষা নাকি শুরু।

 

ঐতিহাসিকরা দর্শনের দ বোঝেন না।দীক্ষা বহুফিনই ছিল।ঐ পুরাণগুলি আসলে চতুর্থ শতকের আগেই শেষ।এবং স্বাভাবিকভাবেই সেগুলিতে তান্ত্রিকী

দীক্ষা আছে।কুলদীক্ষা মূলত তন্ত্রের আরো সম্প্রসারিত দীক্ষা।তা এখানে বোঝানো অসুবিধে।কৌলদীক্ষার প্রবর্তক নাথ-সম্প্রদায়।

 

দক্ষিণের কৌলরা শ্রীকুল।বাংলায় কালিকুল।সুতরাং রমেশবাবুর মত পরিত্যজ্য।অন্তত শেষসীমা অষ্টম শতকের আগেই

নাথ সিদ্ধদের দ্বারা গৃহীদের তান্ত্রিকী কুলদীক্ষা  শুরু।

 

রমেশবাবুর অনুমান কীভাবে হল তা দুর্বোধ্য। কুলজীর কুল,এবং কুলগুরু ও কুলদীক্ষা যে সমাপতিত নয়,তা তিনি বোঝেননি।

তিনি কুলজীতে হয়তো একই গুরু বাপ,ছেলের দেখেই কুলদীক্ষা, কুলীন ইত্যাদি গুলিয়ে,বল্লালের বা তারপরের পদ্ধতিতে কুলদীক্ষা

শব্দ দেখে কুলগুরু প্লেস করেছেন।অথচ তা নয়।

 

তান্ত্রিকী বিশেষকুলদীক্ষা (ঐতিহাসিক আলোচনার সুবাদে হিন্দু/বৌদ্ধ ভাগই করি,তবেও হিন্দু কুলদীক্ষা) নাথেদের হাতেই,এবং তাকে হেসে খেলে

ষষ্ঠশতকে নিয়ে যাওয়া যায়।দক্ষিণেরও কিছু প্রভাব ছিল।কিন্তু তাও অনুমেয় ৮০০ খ্রি থেকেই।এছাড়াও ১০০০ খ্রির আগেই পাঞ্চরাত্রসম্মত বৈষ্ণব

তন্ত্রদীক্ষা প্রচলিত ছিল।

 

বিষ্ণুপক্ষে কৌলদীক্ষাও প্রচলিত ছিল আবার পৌরাণিক-তান্ত্রিকী দীক্ষাও ছিল।প্রথমদলই সহজিয়া।এঁরা চৈতন্যের বহু আগেই বর্তমান ছিলেন।পরিতোষ

দাস লিখেছেন।বৃহদ্ধর্মপুরাণে ফ্বিতীয় দলের প্রমাণ আছে।রাখালদাস বিষ্ণুযন্ত্রের সেন-কালীন ছবি দিয়েছেন।

এরপরের স্তরে,পঞ্চমসম্প্রদায়ের দীক্ষা ও সন্ন্যাসী / গৃহী দীক্ষাগুরুর অবতারণা।কৌলতন্ত্রে,পাঞ্চরাত্রে গুভজু।গুরু ও ইষ্টের অভেদভাবনা জোরদার

হল।

 

বিপরীতে মহাপ্রভু গুভজু ও দেভজু দুইই।তবে তিনি অধিক দেভজু।তাঁর মতে “বন্দে কৃষ্ণম্ জগদগুরুম্” এবং তিনি গুরুচৈত্যরূপে সকলের অন্তঃকরণে

আছেন।দীক্ষাদাতা গুরু,ইষ্ট মহাপ্রভু বা ইষ্ট শ্রীরাধার মঞ্জরী।পঞ্চমসম্প্রদায় গুভজু হলেও মূলত দেভজু।

 

সহজিয়ারা নিত্যানন্দের পুত্রের প্রবর্তনায় বৈষ্ণব হয়েছিলেন,এই তথ্য কিছু কারণে অনির্ভরযোগ্য।সহজিয়ারা আখড়া নিলে মূলত গুভজু।

 

ব্রাহ্মরা দেভজু।সবিশেষ ব্রহ্মই তাঁদের দেবতা।তাঁদের পরে রামকৃষ্ণ মিশন,রামঠাকুর,অনুকূলীয় সৎসঙ্গ,স্বরূপানন্দ (,বাবামণি) সবই গুভজু।

গুভজুদের গুরুগণ কৃপা করুন।দেবতা রুষ্ট হলে প্রায়শ্চিত্ত আছে।গুরুরোষের গুরুকৃপা না হলে পরিত্রাণ নেই।

Previous articleস্বপ্নের সুখি গৃহকোন উপহার দেন সঞ্জীব
Next articleদেখার গল্প (পঞ্চম পর্ব)