Home DISTRICTS জমিদারি নেই, ইতিহাস ছুঁয়ে বারুইপুরের রাস

জমিদারি নেই, ইতিহাস ছুঁয়ে বারুইপুরের রাস

117
0

সুদেষ্ণা মন্ডল , দক্ষিণ ২৪ পরগনা :- জমিদার নেই , নেই জমিদারী। সেদিনের জৌলুস

নেই । কালের নিয়মে হয়তো মলিনতা এসেছে তবু আজও  গরিমা হারায়নি বারুইপুরের

বিখ্যাত রাসমেলা ।

 

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর রাসমাঠ লাগোয়া রায়চৌধুরীদের বিরাট মহল আজও বুক

চিতিয়ে দাঁড়িয়ে।  সাক্ষী বারো ভুইয়ার ইতিহাসের, কিম্বা ইংরাজ আমল ।

 

ইংরেজদের থেকে রায়চৌধুরী খেতাব পাওয়ার পর বৃদ্ধি পায় মদন মাল্যর  জমিদারী ।

অবিভক্ত বাংলার বারো ভূঁইঞার মধ্যে নিজের জায়গা করে নেন তিনি ।

 

অধুনা বালিগঞ্জ থেকে রাঢ় সুন্দরবন সহ সুদূর গঙ্গাসাগর পর্যন্ত তার জমিদারী বিস্তৃত হয় ।

 

জমিদারী আদবকায়দায় পালিত হতে থাকে বারো মাসে তের পার্বণ । যার মধ্যে অন্যতম দুর্গা

পূজা , রথযাত্রা , রাসযাত্রা ।

 

রাস পূর্ণিমাতে জমিদার বাড়ির ভিতর থেকে রাধা মাধবকে বিশেষ ব্যবস্থার সাথে নিয়ে

আসা হয় রাসমাঠের বেদীতে । এর পর সারারাত ধরে চলে পূজা । একসময় পোড়ানো হতো

আতশবাজি ।

 

এই বিশেষ দিনে থেকে বসে বিরাট মেলা । মেলা চলে প্রায় একমাস ধরে । এই মেলায়

শুধু আশেপাশের মানুষজন নয় জয়নগর , কুলতলি , ক্যানিং , বাসন্তী , সোনারপুর সহ

বিভিন্ন এলাকার প্রচুর মানুষ জন ।

 

বহু বছর আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় মেলায় আসা মানুষজন এর জন্য

জমিদার বাড়িতেই  থাকার বন্দোবস্ত হত  ।

 

আর সেসব অতিথিদের  জন্য ব্যবস্থা হতো পুতুল নাচ ও যাত্রার । যা চলতো রাতভোর ।

 

আজ ক্লান্ত , জীর্ণ শরীরে বয়সের ভারে দাঁড়িয়ে রয়েছে সিংহদুয়ার মাথা না ঝুকিয়ে

স্বগরিমায় । বাহুল্যে চ্ছেদ পড়লেও  প্রাচীন নিয়ম নীতিতে কোথাও নেই মলিনতা ।

 

প্রায় চার দশক এর বেশি সময় ধরে এই মেলাকে আরো উজ্জ্বল করেছে সার্কাস ।

নিয়মের বেড়া জালে পশু পাখির খেলা দেখানো বন্ধ হলেও  তা পূরণ হয়েছিল নতুন নতুন

কৌশলের খেলায় ।

 

এবছরও বসেছে সেই রোলেক্স  সার্কাস । সার্কাস মালিক বুদ্ধদেব জানা জানান ,

বারুইপুর রাসমেলার অন্যতম আকর্ষণ সার্কাস । সার্কসকে ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে

তৈরি হয় ব্যাপক উন্মাদনা ।

 

করোনার কারণে বিগত দুবছর সব কিছু বন্ধ ছিল । খুব খারাপ পরিস্তিতির মধ্যে

চলতে হয়েছে । এবছর ছাড়পত্র মেলায় আবারও বারুইপুরে তাঁবু ফেলা হয়েছে ।

ইতিহাস , জমিদারি, জৌলুস না থাক , উৎসব থাক , মানুষে মিলন থাক, থাক আনন্দ।

Previous articleশাপে বর: গ্রীনল্যান্ডে এঁটেল মাটি
Next articleজমি নিয়ে বিবাদ, আগুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here