July 29, 2021

বন্ধন ব্যাঙ্কঃআপনার ভালো ,সবার ভালো

আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু মাত্র ছয়বছর আগে।  আপকা ভালা সবকি ভালাই” যার ক্যাচ লাইন।তার অগ্রগতিও দুর্বার।

কিন্তু এর নেপথ্যে যে সুচিন্তিত পরিকল্পনা তার সূত্রপাত অনেক আগেই।

একটু পিছিয়ে যাওয়া যাক।

গত কয়েকবছর আগে কোলকাতার মাইক্রোফিন্যান্স  সংস্থা

বন্ধন  ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসকে ব্যাঙ্ক খোলার প্রাথমিক অনুমতি দিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।

প্রথম দফায় নতুন ব্যাঙ্ক লাইসেন্স দিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হাই লেভেল অ্যাডভাইজরি কমিটি

অনিল আম্বানির রিলায়েন্স,

আদিত্য বিড়লা এবং বাজাজের মতো নামজাদা গোষ্ঠীর  পরিবর্তে বেছে নিয়েছিল চন্দ্রশেখর ঘোষের প্রতিষ্ঠান বন্ধন ফিনান্সিয়ালকেই।

এর ফলে কোলকাতা ব্যাঙ্কিংব্যবসায় হৃত গৌরব ফিরে পেয়েছিল

আর বাঙালি খুঁজে পেল তার নিজস্ব ব্যাঙ্ক।

বন্ধন ব্যাঙ্কই প্রথম বেসরকারি ব্যাঙ্ক যার সদর দপ্তর কোলকাতা।

সমাজে  নারীই হল সঞ্চয়ের আধার,লক্ষ্মীর ভান্ডার।

নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী এই প্রতিষ্ঠান সামাজিক সংস্কারমূলক,

স্বাস্থ্য ও সাক্ষরতাকেন্দ্রিক ,শিশুকন্যাদের সার্বিক উন্নতিমূলক কাজে প্রায় কুড়ি বছর ধরে নিজেকে নিয়োজিত করেছে।

Targeting the Hardcore Poor এই লক্ষ্যে এগিয়ে চলার শপথ নিয়ে

দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মহিলাদের দৈনন্দিন রোজগারের পথ তৈরি করে

পরিবারকে নিয়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

তাদের ন্যূনতম আর্থিক শিক্ষাটুকুও দিয়ে দেওয়া হয়

যাতে ব্যবসা করে তারা উন্নত জীবনযাপন করতে পারে।

এখনও পর্যন্ত ১১৮১২১জন মহিলা এর আওতাভুক্ত হয়ে উপকৃত হয়েছেন,যার মধ্যে ৫৪০০০ জন এই রাজ্যের।

Bandhan Health Programme মাধ্যমে মেয়ে ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও সচেতনতা সংক্রান্ত কাজ অব্যাহত।

এখনও পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি মানুষ এর দ্বারা জীবনের মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন

এবং বন্ধনের প্রায় ১২০০০ স্বাস্থ্যকর্মী এই কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত।

Bandhan Educational Programme এর মাধ্যমে ছোট ছোট অবৈতনিক স্কুল তৈরি করে বিনামূল্যে পড়ার সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়।

আজ বন্ধনের ৫৪০টি স্কুলে ৪৪০জন শিক্ষিকা নিযুক্ত।

গ্রামীণ ভারতের ১,৬৬,৬৪৫জন শিশু এর সুবিধার অন্তর্ভুক্ত।

বন্ধন ব্যাঙ্কের ব্যবসার ধরণটাই গ্রামীণ অর্থনীতি কেন্দ্রিক।

আর্থিক সংযুক্তিকরণ তখনই সম্ভব যখন দু্ঃস্থ মানুষ দৈনন্দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যে লালফিতের ফাঁসে আটকে থাকার ভয়ে লভ্যাংশ কমানোর পথে হাঁটে।

সেখানেই প্রথাগত আর্থিক সম্পর্কের ছক ভেঙ্গে বেরিয়ে এসে

গ্রামীণ সমাজে মানুষের ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে ব্যাঙ্কের আওতায় এনে মানুষের কাছে তার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বন্ধন ব্যাঙ্ক।

বন্ধন ব্যাঙ্কের কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও মানসিকতাও সেই তারেই বাঁধা।

ব্যাঙ্কিং ভাবনার তৃণমূল স্তর থেকে বৈপ্লবিক পরির্তনের কান্ডারি,

আগামি ভারতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলার পথে ব্রতী  এক গর্বিত বাঙালি   চন্দ্রশেখর ঘোষ।