July 29, 2021

রবীন্দ্রনাথ কে ফেরাতে রাস্তায়

জুলাইয়ের প্রথম দিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে 

উত্তর প্রদেশ বোর্ড কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এস. রাধাকৃষ্ণনের লেখা 

দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রম থেকে সরিয়ে ফেলতে চলেছে .

 

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প ‘দ্য হোম কামিং’ এবং রাধাকৃষ্ণননের  রচনা ‘দ্য উইমেনস এডুকেশন’ দ্বাদশ শ্রেণির 

পাঠ্যক্রম এর অংশ ছিল ওই পাঠক্রমে ।

 

এছাড়াও সরোজিনী নাইডু,আর.কে.নারায়ণ ,চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী, জন মিল্টন এবং পি.বি. শেলির মতো

প্রগতিশীল লেখক দের সৃষ্টি কেও পাঠ্যক্রম থেকে ছেঁটে ফেলে  উত্তর প্রদেশ এর সরকার।

 

এই ঘটনা কে ঘিরে ইতিমধ্যেই অসন্তুষ্টি প্ৰকাশ করেছে দেশের বহু অংশের মানুষ।

 

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী ,ব্রাত্য বসু এই ঘটনার প্রতি কিছু দিন আগেই তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন,“বিজেপি শিক্ষাব্যবস্থা কে গেরুয়া করার চেষ্টা করছে। যদি তারা সিলেবাস থেকে রবীন্দ্রনাথের গল্প বাদ দেয় তবে

এটি তাদের প্রতিরোধমূলক মানসিকতা ছাড়া আর কিছু না ।

 

 মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কথায়   রবীন্দ্রনাথ এর লেখাই প্রমান যে তিনি একজন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ ছিলেন।

স্পষ্টতই বিজেপি এ জাতীয় মতাদর্শ নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। তাই তারা স্কুল এর পাঠ্যক্রম থেকে 

ডাঃ রাধাকৃষ্ণন, ঠাকুরের কাজ সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে  ।”

 

এরপরই  একদম ফ্রন্টফুটে লড়তে রাস্তায় নেমে পড়লো তৃণমূল ছাত্রপরিষদ এর সদস্য রা।

 

১৭ই জুলাই জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি তে কবিগুরুর মূর্তির সামনে থেকেই শুরু হলো এই প্রতিবাদ কর্মসূচি।

 

উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি বিশ্বজিৎ দে,কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ সভাপতি

ও রাজ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সহ সভাপতি রুমানা আখতার । 

 

উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ

এর সম্পাদক শুভম রায়গুপ্ত এর মতন ছাত্ররাজনীতির একাধিক নেতৃত্ব এই বিক্ষোভ কর্মসূচির সূচনা করেন।

 

মিরর নিউস কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রুমানা আখতার বলেন, “সারা বিশ্ব ভারতবর্ষ শুনলে আগে রবীন্দ্রনাথ কে স্মরণ করে,

সেখানে শিক্ষার্থীদের বিরত রেখে গেরুয়া সাম্প্রদায়িকতা কে পাঠ্যভুক্ত করা হচ্ছে । এঁরা চাইলেও ইতিহাস কিন্তু পাল্টাবেনা”

 

এই কথার রেশ ধরেই বিশ্বজিৎ দে  জানিয়েছেন ,”রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলার বলে নন তিনি বিশ্বের গর্ব,

যার রচনা দেশের জাতীয় সঙ্গীত আজ তিনিই পাঠ্য সূচী থেকে ব্রাত্য। ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে খারাপ লাগে।”

 

সর্বশেষে শুভম রয়গুপ্ত এই অন্যায় এর বিরুদ্ধে ক্রমাগত ভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার তাদের উদ্দেশ্যের কথা স্পষ্ট করে দেন।

 

এই প্রতিবাদ  যে  বহু দিন ধরে চলবে তা বলাই বাহুল্য তবে এর ফলে আদৌ 

কোনো পরিবর্তন আসে কিনা সেদিকেই তাকিয়ে  সংশ্লিষ্ট মহল ।